স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
যখন জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার চলছে, ঠিক তখনই ভোলা জেলার বিসিক শিল্প নগরীর দুটি কারখানায় পাওয়া গেল ‘তেলের খনি’। সাধারণ একটি পাম্প যেখানে সপ্তাহে ৪হাজার লিটার তেল পায় না, সেখানে দুই মজুতদারের গুদামে মিলল প্রায় ৬ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) গভীর রাতে এনএসআই-এর তথ্যে পরিচালিত এই অভিযানে জরিমানা ও সাজা ঘোষণা করতেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বিসিক এলাকা।
রাত ৯টা। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), নৌবাহিনী ও পুলিশের একটি যৌথ দল হানা দেয় ‘খান ফ্লাওয়ার আটার মিল’ ও ‘তৃষ্ণা বেকারি’তে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইয়েদ মাহামুদ বুলবুল যখন গুদাম তল্লাশি শুরু করেন, তখন বেরিয়ে আসতে থাকে ড্রাম ড্রাম ডিজেল। অভিযানে খান ফ্লাওয়ার মিল থেকে ৩ হাজার ৯৭৪ লিটার এবং তৃষ্ণা বেকারি থেকে ২ হাজার লিটার তেল জব্দ করা হয়।
অভিযান শেষে ১ লাখ ৫০হাজার টাকা জরিমানা এবং মালিকদের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ঘোষণা করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দণ্ডপ্রাপ্ত জামাল উদ্দিন খানের উসকানিতে শ্রমিকরা প্রশাসনের গাড়ির সামনে ইট ও বালুর বস্তা ফেলে পথ আটকে দেয়। এমনকি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টাও করে তারা। পরে নৌবাহিনীর সদস্যরা কঠোর অবস্থান নিলে পিছু হটে মজুতদাররা।
অবৈধ মজুতের দায়ে আটার মিলের গুদামটি তাৎক্ষণিক সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। জব্দকৃত তেল স্থানীয় পাম্পে সরকারি রেটে বিক্রি করে সেই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযানের দৃশ্য। ছবি সংগৃহীত।


