স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট : যশোরের মণিহার এলাকায় ঈগল পরিবহনের বাস থেকে আটক শাপলা খাতুন ওরফে স্বপ্নার সেই রহস্যময় বস্তু নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা কাটল। আটকের সময় প্যাকেটের মধ্যে থাকা বস্তু গুলোর ভিতরে সাধারণ কোনো কেমিক্যাল নাকি অন্য কিছু তা নিয়ে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে কিছুটা অস্পষ্টতা থাকলেও, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে এগুলো ছিল উচ্চমাত্রার মরণনেশা মাদক ‘ক্রিস্টাল আইস’ বা মেথামফেটামিন তৈরির মূল কাঁচামাল।
গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে মণিহার সিনেমা হল সংলগ্ন বাস কাউন্টার থেকে বিপুল পরিমাণ এই কেমিক্যালসহ স্বপ্নাকে আটকের পর জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। ঘটনার সময় সাধারণ মানুষ বা বাস সংশ্লিষ্টরা বস্তুটি ঠিক কী তা আঁচ করতে পারছিলেন না। এই নিয়ে স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন ও বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও ডিবি পুলিশ অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে বিষয়টি খতিয়ে দেখে। পরবর্তীতে ডিবি পুলিশের চৌকস টিম নিশ্চিত করে যে, প্লাস্টিকের বস্তায় থাকা ২৫ কেজি সিউডোএফিড্রিন এবং ৬ লিটার পিউরিফাইড হাইড্রোক্লোরিক এসিড মূলত আন্তর্জাতিক মানের সিন্থেটিক ড্রাগ তৈরির উপকরণ।
ডিবি যশোরের এসআই অলক কুমার দে জানান, উদ্ধারকৃত এই বিশাল চালানের মাধ্যমেই ভয়ংকর মাদক আইস তৈরি করা সম্ভব। পুলিশ আরও জানায়, সাতক্ষীরা থেকে আসা এই নারী পাচারকারী সুকৌশলে সাধারণ রাসায়নিকের আড়ালে মাদকের এই কাঁচামালগুলো ঢাকায় পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আটকের পর এই রহস্যময় পণ্যের প্রকৃত স্বরূপ উদ্ঘাটন হওয়ায় মাদক চক্রের বড় একটি পরিকল্পনা ভেস্তে গেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটক শাপলা খাতুন ওরফে স্বপ্নাকে আজ শুক্রবার বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।


