স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট : ২২ মার্চ ২০২৬
যশোরের চৌগাছা উপজেলার আজমতপুর গ্রামে এখন শুধু কান্নার শব্দ। উৎসবের ঈদ এই গ্রামে নিয়ে এসেছে এক পাহাড়সম শোক। যে সিরাজুল ইসলাম ও কোহিনুর বেগম দম্পতি অনেক স্বপ্ন নিয়ে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে প্রথমবার ঈদ করতে যাচ্ছিলেন, তাদের সেই যাত্রা শেষ হলো কুমিল্লার এক মর্মান্তিক রেলক্রসিং দুর্ঘটনায়। পহেলা বৈশাখ আর ঈদের এই সন্ধিক্ষণে পুরো গ্রাম আজ স্তব্ধ।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন ভোরেই ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন সিরাজুল-কোহিনুর দম্পতি। গন্তব্য ছিল লক্ষ্মীপুরের রতনকাটি গ্রামে বড় মেয়ে ফারহানা সুলতানা শেফার বাড়ি। বাবা-মায়ের আসার পথ চেয়ে মেয়ে রান্না করেছিলেন ঈদের বিশেষ খাবার। কিন্তু চৌগাছা থেকে মামুন পরিবহনের সেই বাসটি যখন কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং পার হচ্ছিল, ঠিক তখনই ঢাকা অভিমুখী মেইল ট্রেনটি পিষে দিয়ে যায় বাসটিকে।
ভয়াবহ সেই সংঘর্ষে বাসের ১২ জন যাত্রীর সাথে না ফেরার দেশে চলে যান চৌগাছার এই দম্পতিও। রাত তিনটা থেকে পরিবারের সদস্যরা ফোনে তাদের পাচ্ছিলেন না। উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার কয়েক ঘণ্টা পর খবর আসে—তারা আর নেই। মেয়ের জামাই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে গিয়ে নিজের শ্বশুর-শাশুড়ির নিথর দেহ শনাক্ত করেন।
আজ রোববার বিকেলে আজমতপুর গ্রামে যখন তাদের মরদেহ এসে পৌঁছায়, তখন আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে স্বজনদের আহাজারিতে। সারা জীবন যারা একে অপরের ছায়া হয়ে ছিলেন, আজ গ্রামের মাটিতে তাদের জন্য খনন করা হয়েছে পাশাপাশি দুটি কবর। জীবনের সব লেনদেন চুকিয়ে তারা এখন চিরনিদ্রায় শায়িত। সংগৃহীত ছবি



