স্ফুলিঙ্গ ডেক্স : ২৪ মার্চ ২০২৬
ঝালকাঠিতে প্রেমের নামে প্রতারণা ও স্বীকৃতির দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও শেষ রক্ষা হলো না। কোল খালি করে চলে গেল ১৩ মাসের অবোধ শিশু জেসমিন। অবহেলা আর বঞ্চনায় মৃত সেই সন্তানের নিথর দেহ কোলে নিয়েই রাজপথে দাঁড়িয়ে বিচারের দাবি জানিয়েছেন মা লিয়া মনি আক্তার। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলার পূর্ব ভাউতিতা গ্রামে এই মর্মান্তিক মানববন্ধনের দৃশ্য দেখে উপস্থিত সবার চোখ ভিজে ওঠে।
লিয়া মনির অভিযোগ, ২০২১ সালে স্থানীয় যুবক হৃদয় ব্যাপারীর সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্ম নেয় তাদের কন্যাসন্তান। কিন্তু স্বীকৃতির বদলে শুরু হয় নিষ্ঠুরতা।
হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে নবজাতককে কৌশলে ছিনিয়ে নিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হৃদয় ও তার স্বজনরা। পরে এক ভিক্ষুক শিশুটিকে উদ্ধার করে একটি চাইল্ড হোমে পাঠান।
ঘটনার তিন মাস পর লিয়া মনি তার সন্তানের হদিস পান। ডিএনএ পরীক্ষা ও দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে চলতি মাসের ৯ মার্চ অসুস্থ অবস্থায় সন্তানকে ফিরে পান তিনি। পরদিনই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
সন্তানকে ফিরে পাওয়ার দিনই (৯ মার্চ) লিয়া মনি বাদী হয়ে হৃদয় ব্যাপারীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে ঝালকাঠি সদর থানায় মামলা করেন। অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক থাকলেও হৃদয়ের পরিবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান: “ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে।”
ছবি-সংগৃহীত


