আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১৪ মার্চ, ২০২৬
বিশ্বজুড়ে ইরান যুদ্ধের দামামা বাজার মধ্যেই তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর বার্তা দিয়েছে চীন। তাইপের কাছে ওয়াশিংটনের নতুন অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করে বেইজিং স্পষ্ট জানিয়েছে, এই ধরনের উস্কানিমূলক পদক্ষেপ ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ওয়াশিংটনকে অবশ্যই ‘এক চীন নীতি’ এবং দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক তিনটি যৌথ ঘোষণাপত্র কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। একইসঙ্গে তাইওয়ানের কাছে সব ধরনের সমরাস্ত্র সরবরাহ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।”
ট্রাম্পের সফর ও সম্ভাব্য অস্ত্র প্যাকেজ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফরের আগেই তাইওয়ানের জন্য উন্নত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রসহ একটি বিশাল অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদনের খবর সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় জিয়াকুন বলেন, তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে কেবল কথায় নয়, ‘বাস্তব পদক্ষেপ’ নিতে হবে।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর চলতি মাসের শেষে প্রথমবারের মতো চীন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প। এর আগে গত ডিসেম্বরে তাইওয়ানের জন্য রেকর্ড ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয় তার প্রশাসন। যার পাল্টা জবাবে কয়েকটি মার্কিন প্রতিরক্ষা কোম্পানি ও কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল বেইজিং।
নিরাপত্তা শঙ্কা ও আঞ্চলিক সমীকরণ
বর্তমানে ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তি নজর দিতে হচ্ছে পেন্টাগনকে। ফলে পূর্ব এশিয়া থেকে অনেক সামরিক সরঞ্জাম ও শক্তি সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ‘থাড’ (THAAD) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সিউল ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন মধ্যপ্রাচ্যে ব্যস্ত, তখন তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের এই কঠোর অবস্থান দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো মিত্র দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি করছে। চীন এখনও তাইওয়ানকে নিজের একটি ‘বিচ্ছিন্ন প্রদেশ’ হিসেবে বিবেচনা করে, অন্যদিকে তাইপে ১৯৪৯ সাল থেকেই নিজেদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বজায় রেখে আসছে।
সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা। ছবি-সংগৃহীত


