মেহেদী হাসান জিত, বেনাপোল (যশোর): বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য খালাসের সময় ক্রেন চাপায় শ্রমিক শাহাজান নিহতের ঘটনায় বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল থেকে বন্দরে লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সহকর্মীর অকাল মৃত্যুতে শোক ও বন্দরে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে হ্যান্ডলিং শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করায় স্থবির হয়ে পড়েছে মালামাল খালাস প্রক্রিয়া। তবে মালামাল লোড-আনলোড বন্ধ থাকলেও বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি এবং সাধারণ যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে টিটিআই ট্রাক টার্মিনালে পণ্য খালাসের সময় ক্রেন দুর্ঘটনার শিকার হন শ্রমিক শাহাজান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে যশোর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর থেকেই বন্দরের সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। যার ফলে আজ সকাল থেকে তারা কাজে যোগ না দিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন।
শ্রমিকদের দাবি, বন্দরে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটলেও নিরাপত্তার কোনো বালাই নেই। নিম্নমানের ক্রেন ও সরঞ্জামের কারণেই বারবার প্রাণহানি ঘটছে। এই অচলাবস্থা নিরসনে আজ দুপুরে বন্দর চেয়ারম্যানের বেনাপোল আসার কথা রয়েছে। তিনি শ্রমিক নেতাদের সাথে বিশেষ বৈঠকে বসবেন। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও নিহত শ্রমিকের পরিবারের ক্ষতিপূরণসহ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই বন্দরে পুনরায় লোড-আনলোড শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে বন্দরের ভেতরে কয়েকশ পণ্যবাহী ট্রাক খালাসের অপেক্ষায় আটকে আছে। কাজ বন্ধ থাকায় বন্দর এলাকায় পণ্য জট আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকায় বাণিজ্যিক ট্রাকের যাতায়াত ও পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটছে না।
ছবি-সংগৃহীত


