বাসের টিকিট যেন সোনার হরিণ!

বাসের টিকিট যেন সোনার হরিণ!

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট : ঈদ মানেই যেন সাধারণ যাত্রীদের পকেট কাটার মহোৎসব। প্রতিবারের মতো এবারও নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিচ্ছে পরিবহন সিন্ডিকেট। রাজধানীর বিভিন্ন টার্মিনালে বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে প্রতিটি টিকিটে ২০০ থেকে শুরু করে ৮০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘এক টাকাও বেশি নেওয়া হবে না’ এমন কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই।

ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, বাড়তি ভাড়া নেওয়ার প্রমাণ লুকাতে পরিবহন অপারেটররা এবার নতুন কৌশল নিয়েছে। তারা মূল টিকিটের পরিবর্তে হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে ‘টোকেন’। পিরোজপুর গামী যাত্রী আসাদুর রহমান জানান, ৭০০ টাকার টিকিট তাকে কিনতে হয়েছে ১২০০ টাকায়। চারটি টিকিটে তার কাছ থেকে ২ হাজার টাকা বেশি নেওয়া হয়েছে। এই অতিরিক্ত টাকা আড়াল করতেই তাকে টিকিটের বদলে টোকেন দেওয়া হয়েছে, যা যাত্রার ঠিক আগমুহূর্তে কাউন্টার থেকে মূল টিকিটে রূপান্তর করতে হবে।

নন-এসি বাসের পাশাপাশি এসি বাসেও চলছে চরম স্বেচ্ছাচারিতা। ঢাকা-সাতক্ষীরা রুটে ১০০০ টাকার এসি টিকিট বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ থেকে ২২০০ টাকায়। গোল্ডেন লাইন বা ঢাকা লাইনের মতো পরিবহনগুলো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যাত্রীদের পকেট কাটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম দাবি করেছেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো অভিযোগ তার কাছে পৌঁছায়নি। উল্টো তিনি দাবি করেছেন, কোথাও কোথাও ১০০ টাকা ছাড়ও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সায়দাবাদ, কল্যাণপুর ও গাবতলী টার্মিনালের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। যাত্রীরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আর তেলের দামের অজুহাত দিয়ে কাউন্টারগুলো ইচ্ছামতো টাকা আদায় করছে।

অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ অস্বীকার করে শ্যামলী ও গ্রিন লাইন পরিবহনের কাউন্টার কর্মীরা বলছেন, তারা নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছেন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিরপুরের এক টিকিট বিক্রেতা স্বীকার করেছেন, বাসের চেয়ে চাহিদা কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় কিছুটা বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

ছবি-সংগৃহীত

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *