স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট : যশোরের ঐতিহ্যবাহী টাউন হল মাঠে ‘ঈদ আনন্দ মেলা’ ও ‘বৈশাখী মেলা’র নামে সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রশাসনের তৎপরতায় এই ‘অবৈধ’ আয়োজন শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি। শনিবার রাত ৯টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গুঞ্জন বিশ্বাসের নেতৃত্বে মেলাটি বন্ধ করে দিয়ে প্রবেশদ্বারে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘জাগ্রত যশোর যুব মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা’র ব্যানারে গত ১৩ মার্চ থেকে এই আয়োজন শুরু হয়। মেলা ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন বাবু ওরফে পটোল বাবু এবং সংগঠনের সভাপতি ফারজানা ইয়াসমিন মেলার নামে প্রচারণা চালিয়ে প্রায় ৫০ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দোকান দেওয়ার নাম করে মোটা অঙ্কের অগ্রিম টাকা হাতিয়ে নেন। ব্যবসায়ীদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে প্রশাসনের সব বৈধ অনুমতি তাদের কাছে আছে। এমনকি সার্কাস ও বিভিন্ন বিনোদন রাইড বসিয়ে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করা হয়।
আয়োজকরা তাদের ব্যানারে যশোরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নাম ব্যবহার করলেও দেখা গেছে, অধিকাংশ ব্যক্তই এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না। অনুমতি ছাড়াই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মনে বিশ্বাস স্থাপনের চেষ্টা করেছিল এই চক্রটি।
শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গুঞ্জন বিশ্বাস আয়োজকদের কাছে বৈধ কাগজপত্র দেখতে চান। কিন্তু ফারজানা ইয়াসমিন কোনো প্রকার সরকারি অনুমোদনের নথি দেখাতে ব্যর্থ হন। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে মেলাটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে, লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। দোকান সাজাতে মোটা অঙ্কের খরচ করে এখন তারা দিশেহারা। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এখন তাদের অগ্রিম দেওয়া টাকা ফেরত এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
সংগঠনটির সভাপতি ফারজানা ইয়াসমিন এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে জানিয়েছেন, তিনি জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করবেন।
১৫ মার্চ, ২০২৬ ছবি-সংগৃহীত


