প্রধানমন্ত্রী বাবার মতোই উপলব্ধি করেছেন দেশ এবং কৃষককে বাঁচাতে হলে খাল খনন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নাই : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বাবার মতোই উপলব্ধি করেছেন দেশ এবং কৃষককে বাঁচাতে হলে খাল খনন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নাই : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

মোঃ মাসুদ রানা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ থেকে ৮০ সাল পর্যন্ত খাল কেটে শুধু মরুভূমি থেকে সুরক্ষা নয় বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তিনি বিদেশে খাদ্য রপ্তানি করেছিলেন।
আজকে তার সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপলব্ধি করতে পেরেছেন বাংলাদেশকে রক্ষা এবং কৃষককে যদি বাঁচাতে হয় তাহলে খাল খনন এবং পুনরুদ্ধার ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নাই।’

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার চরধলহরাচন্দ্র গ্রামে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিলেন আমরা ক্ষমতায় গেলে সারাদেশে নদী, খাল, জলাশয় খনন পুনঃখনন এবং পুনরুদ্ধার করা হবে। কারণ বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে আমরা দেখেছি সেই পুরোনো খালগুলো আর খাল নেই। সেই খালগুলো তারা অনেককে লিজ দিয়েছেন আবার অনেককে আবাদ করার অধিকার দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এভাবে একটা দেশকে ক্রমান্বয়ে মরুভূমিতে ফেলে রাখা যাবেনা এবং ক্রমান্বয়ে পানির স্তর নিচে নামতে দেওয়া যাবেনা। ইতিমধ্যে তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছেন।’

তিনি বলেন, ‘এখন যে খাল খনন হচ্ছে খালটি যেন প্রবাহমান থাকে স্রোত থাকে। কারণ আমরা ধরেন উজানে খাল খনন করলাম পানি আর চললো না ওই খাল খনন করে কোনো লাভ নাই। খালের পানি যেন প্রবাহমান থাকে সেকারণে আমরা প্রথম প্রায় ৫৫ বছর পরে যৌথসভার মাধ্যমে টার্সফোর্স গঠন করে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ শুরু করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের যে জীববৈচিত্র্য পরিবর্তন পানির স্তর নেমে যাওয়া এর কারণ হলো হাজার হাজার বন উজাড় হয়ে যাচ্ছে। যে কারণে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ৫ বছরে আমরা ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করবো
তার মধ্যে দিয়ে যে বৃক্ষগুলো অচিরেই নেই তা আমরা পূরণ করতে পারবো। আমরা এই জন্য যেখানে খাল খনন করবো তার পাশে বৃক্ষরোপণ করবো।’

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘খালে আমরা আগে মাছ পেতাম আমরা সেই মৎস্য চাষ শুরু করবো। সাধারণ কৃষক খালে হাঁস চাষ করতে পারবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন খালখননে আমরা শুধু ড্রেজার নির্ভর না হয়ে শ্রমিক হিসেবে নারী-পুরুষের যুক্ত করা হবে। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।’

তিনি হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেন, ‘খাল খননে কোনোরকম অনিয়ম করা যাবেনা। খাল খনন, জলাশয় পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে আমরা জিরো টলারেন্স বজায় রাখবো। এই ক্ষেত্রে আমরা কোনো আপোষ করবো না। সুতরাং এ ব্যাপারে আমরা জনগণের সহযোগিতা চাই।’

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক আব্দুল মজিদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল সহ জেলা উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *