স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট : টানটান উত্তেজনার এক থ্রিলার সিনেমার গল্পকেও হার মানালো ঢাকার দক্ষিণখানের আশরাফুল আলম সুমনের জীবন। তিন বছর আগে নিজের স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে বাড়ির আঙিনায় মাটিচাপা দিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর কানাডায়। ভেবেছিলেন সময় আর দূরত্বের আড়ালে ঢাকা পড়ে যাবে রক্তের দাগ। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোলে সবার অলক্ষ্যে দেশে ফিরতে গিয়েই ইমিগ্রেশন পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এই ঘাতক স্বামী।
যেভাবে ধরা পড়লেন আশরাফুল
দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখেন ৫১ বছর বয়সী আশরাফুল। তার ধারণা ছিল নির্বাচনের ব্যস্ততায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হয়তো শিথিল থাকবে। কিন্তু আগে থেকেই জারি থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে শনাক্ত করে এবং তাৎক্ষণিক হেফাজতে নেয়। বর্তমানে তিনি কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
ভয়াবহ সেই স্মৃতি: ভিডিও কলে দেখিয়েছিলেন লাশের অবস্থান
২০২৩ সালের মে মাসে নিখোঁজ হন ৪০ বছর বয়সী আফরোজা। চারদিন পর দক্ষিণখানের নদ্দাপাড়ার একটি বাড়ির সীমানার ভেতর মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় তার গলিত মরদেহ। তখন পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে কানাডায় পালিয়ে যাওয়া আশরাফুল এক অভাবনীয় ঘটনার জন্ম দিয়েছিলেন। পুলিশের গোয়েন্দা জালে ফেঁসে গিয়ে শেষমেশ ভিডিও কলেই তিনি দেখিয়ে দিয়েছিলেন ঠিক কোন জায়গায় স্ত্রীকে মাটিচাপা দিয়ে রেখেছেন। সেই দৃশ্য আজও শিউরে ওঠে নীলফামারীর ডোমার থেকে আসা আফরোজার স্বজনরা।
পরিবারের উদ্বেগ ও জামিনের চেষ্টা
আশরাফুলের গ্রেপ্তারের বিষয়টি বেশ কিছুদিন গোপনীয় থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের ভাই মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনের দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়েছিল যাতে বিষয়টি আলোচনার বাইরে থাকে এবং গোপনে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেওয়া যায়।
মামলার বর্তমান অবস্থা
এই হত্যাকাণ্ডে আশরাফুল ছাড়াও তার বাবা, ভাই এবং আত্মীয়সহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে মামলাটি জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। আগামী ৩০ মে এই আলোচিত মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
ছবির বামে ঘাতক আশরাফুল,ডানে নিহত গৃহবধু আফরোজা। ছবি সংগৃহীত


