স্ফুলিঙ্গ ডেক্স: বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে জাহাঙ্গীর হোসেন (৩২) নামে এক যুবককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কেবল জেল নয়, আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে ভুক্তভোগীকে ২ লাখ টাকা জরিমানা প্রদান এবং জন্ম নেওয়া সন্তানের ২১ বছর পর্যন্ত ভরণপোষণের যাবতীয় ব্যয়ভার বহনের এক ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় প্রদান করেন। রায়ে বিচারক স্পষ্ট করেন যে, আসামির স্থাবর- অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে জরিমানার টাকা আদায় করতে হবে। এছাড়া, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানের ভরণপোষণ যদি আসামির সম্পত্তিতে সম্ভব না হয়, তবে রাষ্ট্রকে সেই দায়িত্ব নিতে হবে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, রাজধানী কাফরুলে স্বামী মারা যাওয়ার পর এক নারীর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন জাহাঙ্গীর। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে প্রথমবার বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কের ফলে ভুক্তভোগী নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। কিন্তু বিয়ের কথা বললে জাহাঙ্গীর তা অস্বীকার করেন।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কাফরুল থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। একই বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি একটি সন্তানের জন্ম দেন। নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে, জাহাঙ্গীরই শিশুটির জৈবিক পিতা। পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং ডিএনএ রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালত এই দৃষ্টান্তমূলক রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি জাহাঙ্গীর আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সাজা পরোয়ানা জারির পর তাকে দ্রুত কারাগারে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এই রায়কে “বিচারের মাইলফলক” হিসেবে অভিহিত করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।


