স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট : যশোরে এমকে রোডের তন্নী টেলিকম থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা ও বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। মামলার গভীর তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পর এই চক্রের আরও দুই মূল হোতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা ইতোমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

গত ৬ এপ্রিল এমকে রোডের ‘তন্নী টেলিকম’ থেকে আলী হোসেন নামে একজনকে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ গ্রেফতার করে ডিবি। এরপর একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ফুটেজে দেখা গিয়েছিল, ডিবির অভিযানের ঠিক আগমুহূর্তে এক ব্যক্তি শপিং ব্যাগ হাতে দোকানে ঢুকে সেটি রেখে বেরিয়ে যান। বিষয়টি আমলে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার চৌকস টিম তদন্তে নামে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সালাউদ্দিন খান সিসিটিভি ফুটেজ ও আলী হোসেনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে খালিদুর রহমান টিটু (৩৩) এবং পরবর্তীতে শেখ মইনুদ্দীন ফেরদৌস (৪০) কে গ্রেফতার করেন। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। শেখ মইনুদ্দীন ফেরদৌস নিজেই স্বীকার করেন যে, ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে ব্যাগ হাতে প্রবেশ করা ব্যক্তিটি ছিলেন তিনি নিজেই। তারা একটি সংঘবদ্ধ অস্ত্র ব্যবসায়ী চক্রের সদস্য এবং স্রেফ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতেই সেখানে অস্ত্রটি রাখা হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের আমলনামা বেশ দীর্ঘ। খালিদুর রহমান টিটুর নামে যশোর কোতোয়ালি থানায় হত্যা, অস্ত্র, মাদক ও বিস্ফোরকসহ ১৫টি মামলা রয়েছে। আলী হোসেনের নামেও আগে একটি অস্ত্র মামলা ছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে যশোরে এই ধরণের অপরাধমূলক সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিল।
গ্রেফতারকৃত শেখ মইনুদ্দীন ফেরদৌস ও খালিদুর রহমান টিটু বিজ্ঞ আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এই মামলায় এ পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে।


