মাগুরা থেকে শরীফ স্বাধীন, মাগুরা | ১৫ মার্চ, ২০২৬
মাগুরায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার বোরো চাষি। সেচ পাম্পে প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় ধানগাছ শুকিয়ে মাঠের মাটি ফেটে চৌচির হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা
অসম্ভব হয়ে পড়বে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে মাগুরা জেলায় ৩৯ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে, যেখান থেকে ৩৯ হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এই বিশাল আবাদ সচল রাখতে জেলায় ২৭ হাজার ৪৯৯টি ডিজেলচালিত পাম্প ব্যবহৃত হয়।
হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন জেলায় ৯৫ হাজার ৬৭০ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৭৩ হাজার ১২০ লিটার। অর্থাৎ, প্রতিদিন প্রায় ২২ হাজার ৫৫০ লিটার ডিজেলের বিশাল ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের বেশিরভাগ সেচ পাম্প তেলের অভাবে বন্ধ পড়ে আছে। বোরো চাষের তিন মাসের চক্রে প্রায় ৬০ বার সেচের প্রয়োজন হয়। চারা রোপণের এক মাস পার হলেও আগামী দুই মাসে অন্তত ৩০ বার সেচ দিতে হবে। পানি না পেলে ধানে পোকামাকড়ের আক্রমণ বেড়ে যাবে এবং ফলন বিপর্যয় ঘটবে।
চাঁদপুর গ্রামের কৃষক আলী আকবর (৪০) আক্ষেপ করে বলেন, “১০০ শতক জমিতে ধান লাগিয়েছি। পাম্পে তেল নেই, সেচ দিতে না পারলে সব ধান পুড়ে যাবে।” শিবরামপুরের কৃষক রাজ্জাক আলী জানান, ঋণ নিয়ে চাষ করলেও পানির অভাবে তার জমির মাটি ফেটে যাচ্ছে। আলধানি গ্রামের শাহাদাত হোসেনের প্রশ্ন, “যানবাহন তেল পেলেও কৃষকরা কেন তেল পাচ্ছে না?”
প্রশাসনের বক্তব্য ও ধোঁয়াশা: ডিজেল সংকট নিয়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে কিছুটা সমন্বয়হীনতা দেখা গেছে। উপসহকারী কৃষি অফিসার নিকুঞ্জ কুমার মন্ডল জানান, কৃষকদের প্রতিদিন ৫ লিটার করে ডিজেল দেওয়ার নির্দেশনা আছে, তবে ‘স্লিপ’ ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

অন্যদিকে, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (কৃষিবিদ) মো. তাজুল ইসলাম দাবি করেছেন, বড় কোনো সংকট নেই। তার মতে, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্লিপের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা নেই।
তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা—শহরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে পাত্র হাতে কৃষকদের দীর্ঘ ভিড় থাকলেও ডিজেল পাওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা মিলছে না।


