চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রতিবন্ধী নিহতের ঘটনায় এক যুবক আটক

চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রতিবন্ধী নিহতের ঘটনায় এক যুবক আটক

শহিদ জয়:

যশোর সদর উপজেলার শ্রীকান্ত নগর গ্রামে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে মিনারুল কবির শামীম (৪৫) নামে এক প্রতিবন্ধী নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলার সন্দেহভাজন আসামি সোহরাব হোসেনকে (৪৫) আটক করেছে পুলিশ। তিনি রামনগর মোবারককাঠি গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে। গত শুক্রবার বিকেলে ক্যাফে বিল হরিনা শ্মশানঘাট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আর নিহত শামীম বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের সবদুল হোসেনের ছেলে।
গত ১৫ জানুয়ারি দিবাগত গভীর রাতে সদর উপজেলার রামনগর শ্রীকান্তনগর বাজারে আরাফাত হোসেনের বিকাশের দোকানে চুরি করতে যায় শামীম। এ সময় দোকানের সামনের দরজার পাল্লা ভেঙ্গে চুরি উদ্দেশ্যে দোকানের মধ্যে ঢোকে। তখন দোকান মালিক ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য ঘুম থেকে উঠেন। এ সময় তিনি সিসি টিভি ক্যামেরায় দোকানের মধ্যে মানুষ দেখতে পান। পরে দোকানদারের চিৎকার চেঁচামেচিতে এলাকাবাসি ঘটনাস্থলে এসে শামীমকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে আহত করেন। ভোর সাড়ে চারটার দিকে চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কিন্তু সে সময় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, শামীম প্রতিবন্ধী। মানষিক ভারসাম্যহীন রোগী। বিভিন্ন ডাক্তার দেখিয়ে তার কোন উন্নতি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে শামীম বলাডাঙ্গা গোবিন্দ মোড়ে আরাফাত ও আশিকের দোকানের সামনে শুয়ে বসে থাকে।
১৫ জানুয়ারি দিবাগত রাত ২ টার দিকে মোড়ের বিকাশের এজেন্ট আরাফাত সিসিটিভির ফুটেজে দেখে দরজা ভেঙে শামীম দোকানের ভিতরে গেছে। আরাফাত বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে দোকানে এসে শামীমকে ধরে ফেলে। এ সময় গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হয়ে শামীমের মৃত্যু হয়। বিষয়টি ভোরে স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে শামীমের লাশ দেখতে পান। এ ঘটনায় নিহতের পিতা দোকান মালিকসহ ৭ জনসহ অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন।
আসামিরা হলো, শ্রীকান্তনগর গ্রামের কুতুবের দুই ছেলে দোকান মালিক আরাফাত ও আশিক, লতিফের ছেলে আজাহারুল, সাইফুলের দুই ছেলে ইসমাইল ও শিহাব ও দেলোয়ারের দুই ছেলে ইমন ও নয়ন।
মামলার তদন্তাকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই আলমগীর হোসেন বলেছেন, এর আগে শামীম হত্যার অভিযোগে আশিকসহ দুইতিনজনকে আটক করা হয়েছিল। মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে সন্দেহভাজন আসামি সোহরাব হোসেনের নাম পাওয়া যায়। তাকে খোঁজা হচ্ছিল। শুক্রবার তাকে পেয়ে আটক করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রতীকী-ছবি

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *