স্ফুলিঙ্গ ডেক্স : শেরপুরের নকলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের নৃশংস হামলার শিকার কিশোর সজীব মিয়া (১৪) না ফেরার দেশে চলে গেছে। টানা চার দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে আইসিইউতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে সে।
নিহত সজীব নকলা উপজেলার বিবিরচর গ্রামের কৃষক ফারহান মিয়ার একমাত্র সন্তান। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ মার্চ রাতে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওইদিন রাত ১০টার দিকে ফোন হারানো সংক্রান্ত তর্কের জেরে সজীবকে নকলা বাইপাস ব্রিজের নিচে ডেকে নেয় একই গ্রামের রিফাত (১৮) ও তার সহযোগীরা। সেখানে একপর্যায়ে রিফাতসহ অন্যরা সজীবকে এলাপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। হামলাটি এতটাই নৃশংস ছিল যে, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার শরীরের অভ্যন্তরীণ অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আসে। চিৎকার শুনে এলাকাবাসী রক্তাক্ত অবস্থায় সজীবকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি করেন। সেখানে চার দিন যমে-মানুষে লড়াই চললেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ জানিয়েছেন, সজীবের মৃত্যুর পর ঘটনাটি এখন হত্যা মামলায় রূপ নিচ্ছে। ইতিমধ্যে পুলিশ সুপারসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রিফাত ও তার সহযোগীরা পলাতক রয়েছে।
সজীবের মৃত্যুতে নকলায় শোকের পাশাপাশি চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় এমন বীভৎস ঘটনা ঘটছে। সামাজিক ও পারিবারিক অবক্ষয়কে দায়ী করে তারা অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
১৫ মার্চ, ২০২৬ ছবি-সংগৃহীত


