কলাপাড়ায় ১০ দিন ধরে গৃহবন্দি ৪পরিবার

কলাপাড়ায় ১০ দিন ধরে গৃহবন্দি ৪পরিবার

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু : কলাপাড়া, পটুয়াখালী ৩০.০৩.২০২৬

প্রস্তাবিত জেলা কলাপাড়ায় সড়কে বেড়া দিয়ে চারটি পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছে এক প্রতিবেশি। এ ঘটনায় প্রায় ১০ দিন ধরে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন ওই পরিবারগুলোর সদস্যরা। উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের তাহেরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাহেপুর গ্রামের এসএ ওমেদপুর মৌজার ৫২৭ দাগের ১ নং খাস খতিয়ানের ওই সড়ক নিজের রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি দাবি করে ১০ দিন আগে কাঠ দিয়ে বেড়া দেয় হযরত আলী নামের এক ব্যক্তি। এতে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়ে আবদুল খালেক মুসুল্লী, ইদ্রিস, আবুল হাসান ও আবুল কালামের পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া প্রায় ৬মাস আগে ওই সড়কের দুই তৃতীয়াংশ কেটে পুকুর তৈরী করেন তিনি। পরে বেশ কিছুদিন তারা কবরস্থানের উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে অন্য পাশ দিয়ে চলাচল করলেও সোমবার ভোরে অপর প্রতিবেশি সামসুল হক সিকদার জাল দিয়ে সেটিও বন্ধ করে দেয়। এতে গৃহবন্দী হয়ে পড়ে ওই চারটি পরিবার।
গৃহবন্দী হয়ে পড়া আবদুল খালেক মুসুল্লী বলেন, এখন রাস্তায় ওঠার মতো আমাদের আর কোন পথ নেই। আমরা গৃহবন্দী হয়ে পড়েছি। ঈদের পর থেকে কবর স্থানের উপর দিয়ে প্রতিবেশি সামসুল হকের বাড়ির পাশ দিয়ে প্রধান সড়কে উঠতাম। সেটিও সরকারী খাস জমি। কিন্তু সেই স্থানটিও জাল দিয়ে বেড়া দেয়ায় আমরা এখন একেবারে গৃহবন্দী হয়ে পড়েছি। অপর গৃহবন্দী আবুল হাসান বলেন, আমাদের এখন ঘরের ভিতরে থাকতে হচ্ছে। সড়ক বন্ধ থাকার কারনে কোথাও যেতে পারছিনা। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছেনা। কিছুদিন কবরস্থানের পাশ দিয়ে চলাচল করছিলাম। এখন সেটিও বন্ধ। আমরা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি৷ আবুদল খালেক মুসুল্লীর ছেলে আল মামুন বলেন, এখন আমরা নিরুপায়। মনে চায় আত্মহত্যা করি। সরকারী জমির রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে আমাদের উপর অমানবিক আচরন করা হয়েছে। আমরা এখন গৃহবন্দী। এর প্রতিকার চাই।
এবিষয়ে জানতে হযরত আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার রেকর্ডীয় সম্পত্তি। তাই আমি বেড়া দিয়েছি। এই সম্পত্তি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকবার শালিশ বৈঠক হয়েছে, সেখানে যে সিদ্ধান্ত হয়েছিলো সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেড়া দিয়েছি।
কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদীক বলেন, এঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হইবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *