বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু:
প্রস্তাবিত জেলা কলাপাড়ায় জেষ্ঠ্যতা লঙ্ঘন করে অধ্যক্ষের পদ গ্রহন, স্বেচ্ছাচারিতা ও অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ এনে ধানখালী ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে শিক্ষকরা। এসময় অধ্যক্ষের নাম ফলকও খুলে ফেলা হয়। সোমবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে ধানখালী ইউনিয়নের কলেজ বাজারে অবস্থিত ওই প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। এঘটনার পর পরই সাংবাদিক সম্মেলন করেন শিক্ষকরা। এসময় শিক্ষকদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ওই কলেজের জেষ্ঠ্য শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ।
তিনি বলেন, কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বশির আহমেদ শারীরিকভাবে অসুস্থতার কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক তাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বভার অর্পণ করেন। কিন্তু অত্র কলেজের প্রভাষক আবুল কালাম আযাদ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জোর সৃষ্টি করে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়কে ভুল বুঝিয়ে এবং সকল শিক্ষকদের মামলার ভয় দেখিয়ে গত বছরের ৩০ জুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহন করে। এটি সম্পূর্ন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আবুল কালাম আযাদ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি, অনিয়ম ও অসদাচরণের মাধ্যমে কলেজের আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। কলেজের ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা না রেখে এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করে বিভিন্ন খাতে অর্থ আত্মসাৎ করছেন। এছাড়াও সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন এবং প্রায়ই শিক্ষকদের মামলার ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এতে শিক্ষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। বিষয়টি ১৯ ফেব্রুয়ারী কলেজের সভাপতি ডা. রেফায়েতকে অবগত করে আবেদন করা হলেও অদ্যাবধি কোন সুষ্ঠ সমাধান না পাওয়ায় শিক্ষকবৃন্দ নিজেদের আত্মমর্যাদা রক্ষা ও কলেজের বর্তমান অস্থিতিশীল অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য হয়েছেন। পাশাপাশি অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল কালাম আযাদের হাত থেকে নিজেদের ও কলেজকে রক্ষা করার জন্য প্রশাসের সহযোগিতা কামনা করছেন।
এ বিষয়ে জানতে আবুল কালাম আযাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষকরা অনধিকার চর্চা করেছেন। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এছাড়া বিষয়টি সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি সমাধানে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত বিষয়টি সমাধান হবে।ছবি-প্রতিবেদক


