ওষুধের ‘সাপ্লাই নেই’ কিন্তু কালোবাজারে সবই আছে !

ওষুধের ‘সাপ্লাই নেই’ কিন্তু কালোবাজারে সবই আছে !

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে সরকারি ওষুধ নিয়ে চলছে হরিলুট। শয্যা সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ ও বরাদ্দের ঘাটতিকে পুঁজি করে এখানে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী ‘ওষুধ চুরির সিন্ডিকেট’। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের একশ্রেণির অসাধু কর্মচারী ডাক্তারদের কাছ থেকে কৌশলে স্লিপ সংগ্রহ করে দামী ওষুধগুলো সরকারি স্টোর থেকে তুলে নিচ্ছেন। ফলে সাধারণ রোগীরা যখন কাউন্টারে যান, তখন তাদের হাতে নামমাত্র কিছু ওষুধ ধরিয়ে দিয়ে বলা হচ্ছে— ‘বাকি দামী ওষুধ সাপ্লাই নেই’।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের অসাধু কর্মচারী চক্রটি বিভিন্ন উপায়ে সরকারি ওষুধ লোপাট করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কৌশল হলো— ডাক্তারদের কাছ থেকে ভুয়া বা অতিরিক্ত স্লিপে সই করিয়ে নেওয়া। এই স্লিপগুলো দেখিয়ে তারা স্টোর থেকে দামী ইনজেকশন ও অ্যান্টিবায়োটিক তুলে নেয়, যা সাধারণ রোগীদের পাওয়ার কথা ছিল। এছাড়া স্টোর থেকে ওয়ার্ডে ওষুধ পাঠানোর নাম করেও বড় একটি অংশ মাঝপথেই উধাও করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি এক কর্মচারীর কাছে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ ধরা পড়ার ঘটনায় স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল।

লোপাট করা এসব সরকারি ওষুধ হাসপাতালের অসাধু চক্রটি বাইরের বিভিন্ন ফার্মেসি এবং গ্রামগঞ্জের হাতুড়ে ডাক্তারদের কাছে সস্তায় বিক্রি করে দেয়। অথচ সরকারি তথ্যমতে, আউটডোর ও ইনডোর মিলিয়ে বছরে ৬৯ কোটি টাকার ওষুধের চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ মেলে। এই সামান্য বরাদ্দের ওপর যখন চুরির সিন্ডিকেট থাবা বসায়, তখন রোগীদের জন্য অবশিষ্ট আর কিছুই থাকে না। ফলে প্রেসক্রিপশনের প্রায় ৯০ শতাংশ ওষুধই হতদরিদ্র রোগীদের চড়া দামে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।

হাসপাতালের আউটডোরে আসা রোগীরা জানান, “ডাক্তাররা দামী ওষুধ লিখলেও স্লিপ নিয়ে কাউন্টারে গেলে বলে নেই। কিন্তু আমরা দেখি ভেতর থেকে অনেকেই ব্যাগ ভর্তি করে ওষুধ নিয়ে বের হচ্ছে।” সাপে কাটা এক রোগী অভিযোগ করেন, সরকারি হাসপাতালে সব সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও তাকে স্যালাইন ছাড়া প্রায় সব ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।

যশোরবাসী মনে করেন, যুগে যুগে চলে আসা এই ওষুধ চুরির মহোৎসব বন্ধ করতে হলে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দরকার। বিশেষ করে ডাক্তারদের স্লিপ ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল পদ্ধতি আনা এবং ওষুদ চোর সিন্ডিকেটের সদস্যদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিলেই কেবল সাধারণ মানুষ সরকারি চিকিৎসার সুফল পাবে।

ফাইল ছবি

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *