নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০ মার্চ ২০২৬
মাদারীপুরের পর এবার যশোরেও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ভয়ংকর ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ বা ‘ডেভিলস ব্রেথ’ চক্র। বিশেষ এক ধরনের রাসায়নিক বা চেতনানাশক ব্যবহার করে নারীদের মুহূর্তের মধ্যে বশ করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটে নিচ্ছে একদল সংঘবদ্ধ অপরাধী। গত এক মাসে মাদারীপুরে অন্তত ১০ জন নারী এই চক্রের শিকার হলেও সম্প্রতি যশোরেও একই ধরনের বেশ কিছু ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।
যেভাবে কাজ করে এই চক্র: তদন্ত ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রের সদস্যরা সাধারণত ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী তরুণ। তারা জনাকীর্ণ এলাকা, ব্যাংক বা শপিংমলের সামনে একা থাকা নারীদের টার্গেট করে। কোনো অজুহাতে সামনে এসে তারা নাকে এক ধরনের পাউডার জাতীয় কেমিক্যাল বা স্প্রে ছিটিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই ভুক্তভোগী তার নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং অপরাধীদের কথা মতো চলতে শুরু করেন। একেই বলা হচ্ছে ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’।
ভুক্তভোগীদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা: মাদারীপুরের সাবিয়া বেগম জানান, এক তরুণ তার কাছে দোয়া চাওয়ার বাহানায় নাকে চেতনানাশক দেয়। এরপর তাকে একটি স্কুল মাঠে নিয়ে শরীরের সব স্বর্ণালংকার ও টাকা হাতিয়ে নেয়। সাবিয়া বলেন, “আমি সব দেখছিলাম, কিন্তু বাধা দেওয়ার ক্ষমতা ছিল না। আমি তখন পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিলাম।” একইভাবে নুরুনাহার বেগম নামের আরেক নারীও সর্বস্ব হারিয়ে এক সপ্তাহ ধরে অসুস্থ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
যশোরেও বাড়ছে আতঙ্ক: যশোরের বিভিন্ন এলাকা থেকেও একই ধরনের প্রতারণার খবর আসছে। বিশেষ করে ঈদকে সামনে রেখে শপিংমল ও ব্যাংক এলাকায় এই চক্রের আনাগোনা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যশোরেও বেশ কয়েকজন নারী একইভাবে সম্মোহনী ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞ ও প্রশাসনের পরামর্শ: চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই কেমিক্যালটি অতি অল্প মাত্রায় ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হলেও অপরাধীরা এটি উচ্চমাত্রায় ব্যবহার করছে, যা দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, এই চক্রকে ধরতে সাদা পোশাকে পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যশোরের সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে জেলা পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সতর্ক থাকতে যা করবেন: ১. রাস্তায় চলাচলের সময় অপরিচিত কেউ কাছে এসে কথা বলতে চাইলে বা কিছু শুঁকাতে দিলে সতর্ক থাকুন। ২. একা চলাফেরা না করে সাথে কাউকে রাখার চেষ্টা করুন। ৩. অপরিচিত কারো দেওয়া রুমাল, কাগজ বা পাউডার থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন। ৪. মুখে মাস্ক ব্যবহার করুন, যা অনেকটা সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতে পারে। ৫. সন্দেহজনক কাউকে দেখলে তাৎক্ষণিক আশেপাশের মানুষের সহায়তা নিন অথবা পুলিশকে জানান।
এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকি ছবি


