স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট : এক অসহায় কিশোরীকে আশ্রয় দিতে গিয়ে নিজের বুক খালি হলো এক মায়ের। মানবিকতার খাতিরে যাকে ঘরে ঠাঁই দিয়েছিলেন, সেই কিশোরীই সুযোগ বুঝে কোল থেকে কেড়ে নিয়ে গেছে মাত্র ৩০ দিন বয়সী এক নবজাতককে। নাটোরের লালপুর উপজেলার নবীনগর গ্রামে ঘটে যাওয়া এই অমানবিক ঘটনায় স্তব্ধ পুরো এলাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে আনুমানিক ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী দিনমজুর জালাল উদ্দিনের দরজায় এসে দাঁড়ায়। নিজেকে অত্যন্ত অসহায় ও নিঃস্ব দাবি করে সে একটু আশ্রয়ের আকুতি জানায়। জালাল উদ্দিনের পরিবার মেয়েটির মায়াবী চেহারার আড়ালে লুকিয়ে থাকা আসল রূপটি বুঝতে পারেনি। মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে ঘরে থাকতে দেন এবং খাবার ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করেন তারা।
সারাদিন পরিবারের সবার সাথে মিশে গিয়ে কিশোরীটি ভরসা অর্জন করে। কিন্তু সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার আগেই যখন পরিবারের সদস্যরা অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই সে ঘরে থাকা জালাল উদ্দিনের এক মাস বয়সী ফুটফুটে কন্যা শিশুটিকে নিয়ে নিঃশব্দে পালিয়ে যায়। অনেকক্ষণ পর শিশুকে দেখতে না পেয়ে মা-বাবার আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। মুহূর্তেই এলাকায় উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশ মাঠে নেমেছে। তিনি বলেন, “শিশুটিকে উদ্ধার করা আমাদের এখন প্রধান লক্ষ্য। সন্দেহভাজন কিশোরীকে শনাক্ত করতে কাজ চলছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
একটি অসহায় পরিবারকে সাহায্য করতে গিয়ে এভাবে সন্তানের বিচ্ছেদ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না গ্রামবাসী। সবার এখন একটাই প্রার্থনা—নিরাপদে মায়ের কোলে ফিরে আসুক ছোট্ট শিশুটি।
ছবি-সংগৃহীত


