আন্তর্জাতিক ডেস্ক : (১৪ মার্চ, ২০২৬)সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এলাকাগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। শনিবার (১৪ মার্চ) তেহরান এক সতর্কবার্তায় দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর এবং আবুধাবির খলিফা ও ফুজাইরাহ বন্দর সংলগ্ন এলাকা থেকে বেসামরিক বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’-এর বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই খবর নিশ্চিত করেছে।
কেন এই হামলার হুমকি?
ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, উল্লিখিত বন্দর ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গোপন অবস্থান ও কার্যক্রম শনাক্ত করা হয়েছে। এই কারণে এসব এলাকা এখন তেহরানের জন্য ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এসব স্থানে শক্তিশালী আঘাত হানা হতে পারে বলে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি
এদিকে, ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরান নতুন করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবারের অভিযানে তারা আরও উন্নত প্রযুক্তির ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি ও জ্বালানি সংকট
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন কেবল ভূমিতে সীমাবদ্ধ নেই। ইরান ইতিমধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। উল্লেখ্য যে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়েই সরবরাহ করা হয়। সমুদ্রপথ অবরুদ্ধ হওয়ার ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
একদিকে ইসরায়েলের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলার আগাম হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে।
সূত্র-আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ছবি- ফাইল ফটো


