আবারও পরিত্যক্ত ঘর থেকে জবাই করা ১৩ঘোড়া উদ্ধার : জনতা আসতেই পালাল কসাই চক্র

আবারও পরিত্যক্ত ঘর থেকে জবাই করা ১৩ঘোড়া উদ্ধার : জনতা আসতেই পালাল কসাই চক্র

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস খাইয়ে দেওয়ার এক ভয়ংকর প্রতারণা হাতেনাতে ধরে ফেলেছে স্থানীয় জনতা। বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার আনারপুরা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পল্লীবিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের পেছনের একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে জবাই করা ১৩টি ঘোড়ার দেহাবশেষ ও বিপুল পরিমাণ মাংস জব্দ করা হয়েছে। জনরোষের মুখে এ সময় তিতাস ও রাজিব নামে দুই হোতাসহ পুরো চক্রটি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ছয় মাস ধরে ওই পরিত্যক্ত ঘরে গভীর রাতে সন্দেহজনক আনাগোনা চলছিল। প্রতি রবিবার ও বুধবার সেখানে গাড়ি আসত এবং সকালে রক্ত ও হাড় পড়ে থাকতে দেখা যেত। বুধবার ভোরে গ্রামবাসী ওত পেতে থেকে চক্রটিকে ঘিরে ফেলে। এ সময় দেখা যায়, অন্তত ১৩টি ঘোড়া জবাই করে প্রায় ৩০ মণ মাংস বস্তায় ভরার প্রস্তুতি চলছিল। জনতা ধাওয়া দিলে চক্রটি পালিয়ে গেলেও সেখানে থাকা একটি জীবন্ত ঘোড়া উদ্ধার করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, এই চক্রটি মূলত ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিভিন্ন নামী-দামী হোটেল ও বাজারে সরবরাহ করত। প্রমাণ মুছে ফেলতে তারা ঘোড়ার চামড়া, হাড় ও নাড়িভুঁড়ি গর্ত করে মাটিচাপা দিয়ে রাখত।

সম্প্রতি গাজীপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রশাসন একাধিক জীবন্ত ঘোড়া উদ্ধার করেছে। একের পর এক এমন ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, একটি বড় সিন্ডিকেট গরুর মাংসের উচ্চমূল্যের সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষকে ঘোড়ার মাংস খাওয়াচ্ছে। গজারিয়ার এই ঘটনা সেই আশঙ্কারই প্রতিফলন।

গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, “পশু জবাই আইন অনুযায়ী ঘোড়া জবাইয়ের কোনো বিধান নেই। আমরা পুলিশের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি। জব্দকৃত মাংসগুলো জনসম্মুখেই পুঁতে ফেলা হবে।” গজারিয়া থানার ওসি মো. হাসান আলী জানিয়েছেন, পালিয়ে যাওয়া অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।

এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকি ছবি

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *