মোঃ মাসুদ রানা (কালীগঞ্জ)ঝিনাইদহ :

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে শিলা বৃষ্টির সময়ে ফসলের মাঠে এক মন ওজনের বিশাল আকৃতির একটি শিলা পড়েছে বলে ব্যাপক প্রচার রটেছে। যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলার পাচকাউনিয়া গ্রামের কৃষক কৃষ্ণ চন্দ্র অধিকারি ওই শিলাটি পান বলে জানা যায়। কৃষকের র্ভাষ্য. শিলাটির ওজন প্রায় এক মন হতে পারে। তবে, গ্রামের অন্যদের ভার্ষ্য, অনেক গুলি ছোট ছোট শিলা একত্রে জমা হয়ে সেটি বরফ খন্ডে রুপ নিয়ে এমনটি হতে পারে।
কৃষক কৃষ্ণ চন্দ্র অধিকারি জানান, রবিবার সন্ধার পর তাদের গ্রামে ব্যাপক শিলা বৃষ্টি হয়। আজ (৩০ র্মাচ) সোমবার সকালে তিনি মাঠে বেগুনের ক্ষেত দেখতে যান। এ সময় দুর থেকে লক্ষ্য করেন মাঠের মাঝে বড় আকৃতির একটি সাদা খন্ড পড়ে আছে। কাছে গিয়ে দেখেন সেটি একটি বিশাল আকৃতির শিলা খন্ড। যার ওজন প্রায় এক মন হতে পারে। শিলাটি অনেক ভারী এবং তুলে আনতে অসাধ্য হওয়ায় সেটি ভেঙে তার টুকরা অংশ বাজারে নিয়ে আসেন। এ সময় বিশাল আকৃতির শিলাটি দেখতে উৎসুক জনতা ভীড় করেন।
প্রত্যক্ষ্যদর্শী উৎসুক জনতা জানায়, বৃষ্টির সাথে ছোট ছোট শিলা পড়তে দেখেছি। কিন্তু, আগে কখনো এত বড় শিলা পড়তে দেখিনি বা শুনিনি । এটি অবিশ্বাস্য, বিশ্বাস করতে পারছি না।
উপজেলার পারক্ষির্দ্দা গ্রামের মিজানুর রহমান রাসেল জানান, বড় শিলা খন্ড পড়ার ঘটনাটি আজগুবি ও সত্য নয়। ওই কৃষকের মাঠের বেগুন ক্ষেতের উপরে পোকা দমনের জন্য সাদা নেট টাঙ্গানো ছিল। রোববার বৃষ্টির সময়ে পড়া ছোট ছোট শিলাগুলি একত্রে জমা হয়ে তা বরফ থন্ডে রুপ নেয়। কৃষকরা সেই খন্ডকেই বিশাল আকৃতির শিলা বলে মনে করছেন বলে যোগ করেন তিনি।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা: আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, শিলাবৃষ্টির সময় সাধারণত কয়েক গ্রাম থেকে সর্বোচ্চ এক-দুই কেজি ওজনের শিলা পড়া সম্ভব। তবে বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আকাশ থেকে এক মন বা ৪০ কেজি ওজনের একক কোনো শিলাখণ্ড পড়া কার্যত অসম্ভব। যদি এমন কিছু পড়ত, তবে তার আঘাতে ঘরবাড়ি বা মাটি লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ার কথা।


