স্ফুলিঙ্গ ডেক্স : অস্ত্রোপচারের টেবিলে যাওয়ার আগেই চিরবিদায় নিলেন দুই নারী। আজ রবিবার সকালে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি গোটা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। নিয়ম ভেঙে অপারেশন থিয়েটারের বাইরের ইনজেকশন ওয়ার্ডে প্রয়োগ করাই এই মৃত্যুর কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মারা যাওয়া দুই রোগী হলেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডাবলুগঞ্জ গ্রামের মান্নানের স্ত্রী সেফালী বেগম (৬০) এবং বরিশাল বিমানবন্দর থানার কাশীপুর এলাকার মৃত বাবু হাওলাদারের স্ত্রী হেলেনা বেগম (৪৫)। তারা দুজনই পাশাপাশি বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেফালীর গালে টিউমার এবং হেলেনার থাইরয়েড সমস্যার অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল আজ সকাল সাড়ে ৮টায়।
স্বজনরা জানান, অস্ত্রোপচারের দুই ঘণ্টা আগে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ওয়ার্ডের নার্স মলিনা রাণী হালদার তাদের শরীরে ‘নরকিউ’ ১০ মিলিগ্রাম অ্যানেসথেসিয়া ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন দেওয়ার দুই থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই দুই রোগী ছটফট শুরু করেন। সেফালীর মেয়ে খাদিজা জানান, তার মায়ের শ্বাসকষ্ট ও খিঁচুনি শুরু হয় এবং মুহূর্তেই শরীর কালচে হয়ে যায়। হেলেনার ভাইও একই দৃশ্য দেখে নার্সদের ডাকলে তারা পরীক্ষা করে তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ‘নরকিউ’ (ভেকুরোনিয়াম ব্রোমাইড) এমন একটি ওষুধ যা শ্বাসপ্রশ্বাসের পেশি অচল করে দেয়। এটি কেবল ভেন্টিলেশন সুবিধা সম্পন্ন অপারেশন থিয়েটারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের (অ্যানেসথেসিওলজিস্ট) উপস্থিতিতে দেওয়ার নিয়ম। কিন্তু শেবাচিমে কোনো বিশেষজ্ঞ ছাড়াই সাধারণ ওয়ার্ডে নার্সরা এই জীবনদায়ী ওষুধটি মরণঘাতী হিসেবে প্রয়োগ করেন।
অভিযুক্ত নার্স মলিনা রাণী হালদার তার ২৬ বছরের ক্যারিয়ারে এমন ভুল আগে হয়নি দাবি করে ক্ষমা চেয়েছেন। তবে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, জ্যেষ্ঠ নার্স হেলেন অধিকারীর নির্দেশেই তিনি এই ওষুধ প্রয়োগ করেছেন। যদিও হেলেন অধিকারী এই দায় অস্বীকার করেছেন।
শেবাচিমের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর এই ঘটনাকে ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ’ ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, “নার্সরা প্রটোকল ভেঙে নির্ধারিত সময়ের আগেই ইনজেকশন দিয়েছেন।” ঘটনা তদন্তে সহকারী অধ্যাপক আমিনুল হককে প্রধান করে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং নিহতের পরিবারকে মামলা করতে বলা হয়েছে।
ছবি- ফাইল ফটো


