সিন্ডিকেটের দখলে বাজার, প্রশাসনের নীরবতায় জনমনে ক্ষোভ

সিন্ডিকেটের দখলে বাজার, প্রশাসনের নীরবতায় জনমনে ক্ষোভ

চৌগাছা (যশোর) প্রতিবেদক জাহিদ হাসান সোহান :

চৌগাছা যশোরের চৌগাছায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে পাম্পগুলোতে তেলের জন্য শত শত মানুষের দীর্ঘ লাইন, অন্যদিকে ‘অদৃশ্য সিন্ডিকেটের’ মাধ্যমে খোলা বাজারে ৩৫০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে অকটেন। ভিডিও প্রমাণসহ বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও রহস্যজনক কারণে এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

​সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ভোর ৬টা থেকে ৩০০-৫০০ মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। তীব্র রোদ ও ভোগান্তি উপেক্ষা করে লাইনে দাঁড়িয়েও অধিকাংশ চালক তেল না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। পাম্পগুলো ‘রেশনিং’ পদ্ধতির দোহাই দিয়ে তেল সরবরাহ কমিয়ে দিলেও স্থানীয় বাজারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রশাসনের নজরদারির আড়ালে ছোট ছোট দোকানে বোতলজাত করে বিক্রি হচ্ছে পেট্রল ও অকটেন। যেখানে প্রতি লিটার অকটেনের দাম হাঁকা হচ্ছে ৩৫০ টাকা এবং পেট্রল বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা দরে।

​অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৪ঠা এপ্রিল খোলা বাজারে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল বিক্রির ভিডিও চিত্রসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলামকে অবহিত করেন। মোবাইল ফোনে তথ্য পেয়ে তিনি কেবল “তথ্য প্রদানের জন্য ধন্যবাদ” বলেই দায় সেরেছেন। কিন্তু কয়েক দিন পার হয়ে গেলেও অভিযুক্ত দোকানদার বা মজুতদার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, পাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে সিন্ডিকেট ড্রাম ভরে তেল সরিয়ে নিচ্ছে। সাধারণ গ্রাহকদের তেল না দিয়ে পাম্পগুলো রাতের আঁধারে সিন্ডিকেটের হাতে তেল তুলে দিচ্ছে, যা পরে খুচরা বাজারে দুই থেকে তিন গুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। আবার, কিছু দোকানী মোটরসাইকেলের ট্যাংকি বোঝাই করে পাম্প থেকে পেট্রোল ও অকটেন সংগ্রহ করে তা বোতলে নামিয়ে উচ্চমূল্যে বিক্রি করছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের শুরু থেকেই চৌগাছায় এই চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠলেও তারা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

​তেল না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়া এক মোটরসাইকেল চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, পাম্প বলছে তেল নেই। অথচ পাশের দোকানে গেলেই ৩৫০ টাকায় তেল পাওয়া যাচ্ছে। প্রশাসন যদি ব্যবস্থা না নেয়, তবে আমরা সাধারণ মানুষ কোথায় যাব?”

​চৌগাছার সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দোষীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হোক এবং পাম্পগুলোতে তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *