স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহৎ চিকিৎসা কেন্দ্র যশোর জেনারেল হাসপাতালকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর প্রতারক চক্র। কোনো ল্যাবে পরীক্ষা না করেই রোগীদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে মনগড়া মেডিকেল রিপোর্ট। এই সিন্ডিকেটের দেওয়া ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা নিয়ে সম্প্রতি এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মূলত হাসপাতালের কতিপয় কথিত স্বেচ্ছাসেবক ও চিহ্নিত দালালদের সমন্বয়ে গঠিত এই চক্রটি সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে ‘স্বেচ্ছাসেবক’ পরিচয়ে এই চক্রের সদস্যরা অবস্থান করে। কোনো রোগী ভর্তি হলে বা চিকিৎসক পরীক্ষা দিলে তারা সুকৌশলে রোগীর স্বজনদের পাশে দাঁড়ায়। এরপর ‘দ্রুত ও কম খরচে’ পরীক্ষা করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে স্যাম্পল বা নমুনা সংগ্রহ করে। কিন্তু কোনো ল্যাবে না গিয়েই তারা কম্পিউটার দোকান বা অখ্যাত স্থানে বসে শহরের নামকরা বেসরকারি হাসপাতালের প্যাড ও লোগো নকল করে ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করে। এমনকি চিকিৎসকদের স্বাক্ষরও নিখুঁতভাবে জাল করা হয়, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে চেনা প্রায় অসম্ভব।
সম্প্রতি এক রোগীর মৃত্যুর পর এই প্রতারণা সামনে আসে। চিকিৎসকের দেওয়া পরীক্ষার রিপোর্ট আসার পর ওষুধ শুরু হলেও রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি মারা যান। পরবর্তীতে স্বজনরা জানতে পারেন, ওই রিপোর্টটি ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া। বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করেছে যে, তাদের নাম ও প্যাড জাল করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের ভেতর থেকে কারিগরি সহায়তা বা যোগসাজশ ছাড়া বাইরের দালালদের পক্ষে ওয়ার্ডে ঢুকে নমুনা সংগ্রহ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
এই চক্রটি মূলত গ্রামাঞ্চল থেকে আসা অসহায় রোগীদের টার্গেট করে। পরীক্ষার নাম করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিলেও বিনিময়ে দেওয়া হচ্ছে মৃত্যুর পরোয়ানা। সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্যমতে, চক্রের বেশ কয়েকজন সক্রিয় সদস্যের নাম উঠে এসেছে যারা দিনের পর দিন হাসপাতালের ভেতরেই এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা দুঃখ প্রকাশ করেছেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জানিয়েছেন, এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় একটি কাজ। এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে এবং খুব দ্রুত একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
ফাইল ছবি

