লঞ্চের ধাক্কায় শেষ হলো দুই শ্রমিকের স্বপ্ন : মাঝ নদীতে তরমুজবাহী ট্রলারডুবি

লঞ্চের ধাক্কায় শেষ হলো দুই শ্রমিকের স্বপ্ন : মাঝ নদীতে তরমুজবাহী ট্রলারডুবি

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স : ২৫ মার্চ ২০২৬

ভোররাতের ঘন কুয়াশা আর বিশালাকার যাত্রীবাহী লঞ্চের বেপরোয়া গতির বলি হলেন দুই তরমুজ শ্রমিক। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার লোহালিয়া নদীতে বুধবার (২৫ মার্চ) শেষ রাতে যাত্রীবাহী ডাবল ডেকার লঞ্চ ‘এমভি আওলাদ-৭’-এর ধাক্কায় মুহূর্তেই সলিল সমাধি হয়েছে তরমুজবোঝাই একটি ট্রলারের। এই মর্মান্তিক ঘটনায় দুই শ্রমিকের প্রাণহানির পর লঞ্চটির রুট পারমিট ও সময়সূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে বিআইডব্লিউটিএ।

নিহত হতভাগা দুই শ্রমিক হলেন—রাঙ্গাবালী উপজেলার চরলাটসাহেব এলাকার রেজাউল করীম (২৮) এবং একই উপজেলার নাছির ফকির (৪২)। তারা দুজনেই ট্রলারে করে তরমুজ নিয়ে বরিশালের গন্তব্যে যাচ্ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বেঁচে ফেরা যাত্রীরা জানান, রাঙ্গাবালী থেকে প্রায় ৪শ’ তরমুজ নিয়ে ট্রলারটি যখন বামনিকাঠী লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছায়, তখন সময় ভোর সাড়ে ৩টা। চারদিকে ছিল ঘন কুয়াশার চাদর। ঠিক সেই সময় ঢাকা থেকে পটুয়াখালীগামী ‘এমভি আওলাদ-৭’ লঞ্চটি সজোরে ট্রলারটিকে আঘাত করে। ট্রলারে থাকা ৬ জনের মধ্যে ৪ জন কোনোমতে সাঁতরে জীবন বাঁচাতে পারলেও কেবিনে ঘুমিয়ে থাকা রেজাউল ও নাছির বের হওয়ার সুযোগ পাননি। প্রায় ৯ ঘণ্টা পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করে।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই নড়েচড়ে বসে নৌ-কর্তৃপক্ষ। পটুয়াখালীর সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মো. জাকী শাহরিয়ার জানান, কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় এমভি আওলাদ-৭ লঞ্চটির চলাচলের অনুমতি সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে ওই রুটে বিকল্প লঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

লাশ উদ্ধারের চিত্র। ভিডিও থেকে নেওয়া।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *