নিজস্ব প্রতিবেদক, বাউফল,পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়া ইউনিয়নে সরকারি চাল বিতরণে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের প্রায় ৬ মেট্রিক টন চালের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে বস্তা গণনার সময় এই কারচুপি হাতেনাতে ধরা পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তোপের মুখে পড়ে ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হাওলাদার নিজের অপরাধ পরোক্ষভাবে স্বীকার করে সাংবাদিকদের নিউজ না করার জন্য অনুরোধ জানান।
কালাইয়া ইউনিয়নে ৯২১ জন নিবন্ধিত জেলের জন্য বরাদ্দ ছিল ৭৩.৬৮ মেট্রিক টন চাল। হিসেব অনুযায়ী ৩০ কেজি ওজনের ২ হাজার ৪৫৬ বস্তা চাল বিতরণের কথা। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে গণনায় দেখা যায় ১৯২ বস্তা চাল কম রয়েছে। বাজারমূল্যে প্রায় ২ লাখ ৫৯ হাজার টাকার এই সরকারি সম্পদ মাঝপথেই ‘গায়েব’ করে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ট্যাগ অফিসার মো. জুবায়ের হোসেন জানান, ওয়ার্ডভিত্তিক ভাগ করার সময় এই বড় ঘাটতি ধরা পড়ে। ঘটনার পর থেকে কালাইয়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকবালুর রহমানকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি, এমনকি তিনি ফোনও রিসিভ করছেন না। ইউপি সচিব আবু বক্কর ছিদ্দিক সব দায় খাদ্য গুদামের ওপর চাপিয়ে দিলেও প্যানেল চেয়ারম্যানের ‘ভুল হয়ে গেছে’ এমন মন্তব্য পুরো ঘটনাকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ জানান, “সরকারি চালে হাত দেওয়ার সাহস যারই হোক, তদন্তে প্রমাণ মিললে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। কঠোর আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
ছবি-সংগৃহীত


