টানা এক সপ্তাহ বন্ধ থাকছে বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি: স্থবির হওয়ার শঙ্কা

টানা এক সপ্তাহ বন্ধ থাকছে বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি: স্থবির হওয়ার শঙ্কা

বেনাপোল প্রতিনিধি : শবে কদর, ঈদ-উল-ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটির কারনে এক সপ্তাহ দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দর ও কাস্টমসের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এর ফলে পন্যবাহী ট্রাকজটের পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়বে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দরের কার্যক্রম।

এদিকে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সীমিত আকারে কাস্টমস হাউসগুলোর আমদানি-রপ্তনি কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব রোর্ড (এনবিআর)। তবে শুধু ঈদের দিনে শুল্ক স্টেশনগুলো বন্ধ থাকবে। এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস নীতি) রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় গত সোমবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে বন্ধের দিন আমাদেরও সীমিত আকারে খোলা রাখা হবে। তবে কেউ পণ্য খালাস নিতে চাইলে খালাস দেয়া হবে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, দেশের অর্থনীতিতে বেনাপোল বন্দরের ভূমিকা অপরিসীম। ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ৯০ ভাগই আসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। মাত্র সাত দিনের এলসিতে পণ্য আনা যায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে। বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। আড়াই ঘন্টায় চলে আসে পেট্রাপোল বন্দরে। সে কারণে আমদানিকারকরা পণ্য আমদানির জন্য বেনাপোল বন্দর ব্যবহার করে থাকেন।

বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বলেন, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে বন্ধ হয়ে যাবে বেনাপোল-পেট্রাপোলের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি। কাস্টম ও বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা নিজ নিজ বাড়িতে ঈদ করতে যাবেন। তারপর সরকার ঈদের তিন দিন আগে পরে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ রাখায় বন্দর থেকে কোন পণ্য খালাসও হবে না। অনেক আমদানিকারক ঈদের ছুটিতে পরিবার পরিজন নিয়ে দেশের বাড়িতে যাবেন। তারা ফিরে না আসা পর্যন্ত কোন পণ্যও খালাস নিবে না। আগামী মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকে পুনরায় আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম সচল হবে। টানা এক সপ্তাহ ছুটির কারনে সীমান্তের দু‘পাশের বন্দরে ট্রাকজট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।

এনবিআরের নির্দেশনায় বলা হয়, দেশের আমদানি-রপ্তনি বাণিজ্য নিরবচ্ছিন্ন রাখতে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত (ঈদের দিন ব্যতীত) সাপ্তাহিক ছুটি ও ঈদের ছুটির দিনগুলোতে আমদানি-রপ্তনি সংক্রান্ত কার্যক্রম সীমিত আকারে চলমান রাখার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন জানান, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে ঈদের ছুটি হয়ে যাচ্ছে। ছুটিতে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে তবে কাস্টমসের সাথে সমন্বয় করে সীমিত আকারে খোলা থাকবে। কোন আমদানিকারক পণ্য ডেলিভারী নিতে চাইলে দেয়া হবে। ঈদের ছুটির মধ্যে বন্দরে যাতে কোন ধরনের নাশকতামূলক বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

প্রেরক: মেহেদী হাসান জিত, বেনাপোল যশোর।                                                                                                                                                         ছবি-স্ফুলিঙ্গ।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *