নিজস্ব প্রতিবেদক: মাত্র ৫০০ টাকা ভাড়ার জেদ আর অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের অমানবিকতায় কিশোরগঞ্জে নিভল এক নবজাতকের প্রাণ। উন্নত চিকিৎসার জন্য সময়মতো হাসপাতালে নিতে না পারায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া এই শিশুর ঘটনা দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। তবে এই চিত্র শুধু কিশোরগঞ্জের নয়, আমাদের যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল (সদর হাসপাতাল) চত্বরেও একই রকম সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে আছে সাধারণ মানুষ।
কিশোরগঞ্জে যা ঘটেছিল:
গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত রাতে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে এক নবজাতক ভর্তি হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা দ্রুত তাকে ময়মনসিংহে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বেসরকারি চালকদের কাছে যান স্বজনরা। সরকারি ভাড়া ১ হাজার ৬০০ টাকা হলেও চালকরা ৪ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন। অসহায় পরিবার ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে চাইলেও সিন্ডিকেটের সদস্যরা মাত্র ৫০০ টাকার জন্য অনড় থাকে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই ভাড়া নিয়ে দরাদরি আর সিন্ডিকেটের বাধায় শেষ পর্যন্ত রাত ৩টার দিকে শিশুটি মারা যায়।
যশোর সদর হাসপাতালেও একই অভিশাপ:
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যশোর সদর হাসপাতাল চত্বরেও গড়ে উঠেছে শক্তিশালী একটি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট। হাসপাতালের গেট থেকে শুরু করে ভেতরে জরুরি বিভাগের সামনে পর্যন্ত এদের অবস্থান। বাইরের কোনো অ্যাম্বুলেন্স বা সাশ্রয়ী ভাড়ার গাড়ি সেখানে ভিড়তে দেওয়া হয় না।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ রোগী গুরুতর অসুস্থ হলে বা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা-খুলনা নিতে হলে এই সিন্ডিকেট ইচ্ছামতো ভাড়া দাবি করে। নিরুপায় হয়ে মানুষ তাদের দাবি মানতে বাধ্য হয়। সিন্ডিকেটের চালক ও সহকারীদের আচরণ অত্যন্ত রুক্ষ। ভাড়ার বিষয়ে সামান্য তর্কে জড়ানো মানেই স্বজনদের সাথে বাজে ব্যবহার বা হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। হাসপাতালের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো তারা দখল করে রাখে, ফলে জরুরি সময়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আকাশচুম্বী হয়।
যশোরের সচেতন মহলের দাবি, কিশোরগঞ্জের এই মর্মান্তিক ঘটনা যেন যশোরে আর না ঘটে, সেজন্য এখনই সদর হাসপাতালের এই অবৈধ সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া জরুরি। সাধারণ রোগীদের জিম্মি করে এই ‘মরদেহ বাণিজ্য’ বন্ধ করতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
যশোর সদর হাসপাতাল এবং ইনসেটে কিশোরগঞ্জে পিতার কোলে মৃত শিশু। ছবি সংগৃহীত।

